১১০% অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা

প্রথমার্ধে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা কমেছে ৬৮৬ কোটি টাকা

টেলিযোগাযোগ খাতের তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেডের চলতি ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) কর-পরবর্তী নিট মুনাফা কমেছে ৬৮৬ কোটি ২০ লাখ টাকা।

টেলিযোগাযোগ খাতের তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেডের চলতি ২০২৫ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) কর-পরবর্তী নিট মুনাফা কমেছে ৬৮৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। কোম্পানিটি চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক (এপ্রিল-জুন) ও প্রথমার্ধের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ১১০ শতাংশ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে গ্রামীণফোনের আয় হয়েছে ৭ হাজার ৯৩৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮ হাজার ১৫৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৫১৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ হাজার ১৯৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ৩১ দশমিক ২০ শতাংশ। প্রথমার্ধে গ্রামীণফোনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১১ টাকা ২১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৬ টাকা ২৯ পয়সা।

চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের আয় হয়েছে ৪ হাজার ১০৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ হাজার ২২৩ কোটি ২ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৮৭৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৬১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৬ টাকা ৫১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬ টাকা ৩৮ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪২ টাকা ১৫ পয়সায়।

গ্রামীণফোনের পর্ষদ চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক ও প্রথমার্ধের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১১০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৩ আগস্ট।

সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে গ্রামীণফোনের পর্ষদ। এর মধ্যে ১৭০ শতাংশ চূড়ান্ত ও ১৬০ শতাংশ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ।

আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৪ টাকা ৪৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৭ টাকা ৯৫ পয়সায়।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১২৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে গ্রামীণফোনের ইপিএস হয়েছে ২৪ টাকা ৪৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২২ টাকা ২৯ পয়সায়। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৩৯ পয়সায়।

গ্রামীণফোনের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ট্রিপল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি ওয়ান’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং প্রকাশের দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (ক্রিসল)।

২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রামীণফোনের অনুমোদিত মূলধন ৪ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪ হাজার ৩১৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি ৩ লাখ ২২। এর ৯০ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ৫০, বিদেশী বিনিয়োগকারী দশমিক ৯৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও